Home
Published: 2017-04-26 22:57:11

নিউজ আগামীঃ

পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে  ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি কূটনৈতিক উপায়েও উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের নিয়ে বিশেষ ব্রিফিং শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কৌশলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রত্যাহার চায়’ বলে এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এ যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ও ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ড্যান কোটস।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘লক্ষ্য অর্জনের জন্য আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। তবে নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষার জন্যও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প)  লক্ষ্য পারমাণবিক, ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও বিস্তার কর্মসূচি বাদ দেওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এ জন্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করাসহ আমাদের মিত্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদের নিয়ে কূটনৈতিক উপায় অবলম্বন করা হবে।’

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসীদের মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে উত্তর কোরিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন সিনেটের সব সদস্যকেই (১০০) বৈঠকে ডাকে হোয়াইট হাউস। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট দফতরের ক্যাপিটাল হিলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া পরস্পর উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন শুরু করেছে। বুধবার টার্মিনাল হাই অ্যাল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড)-এ ব্যবহৃত রাডার ও অন্য সরঞ্জাম মোতায়েন করার জন্য ছয়টি ট্রেইলারে  দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সেউনজু এলাকার একটি গলফ খেলার মাঠে নেওয়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। বেইজিং বলছে, ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়াকে তেমন প্রভাবিত করতে পারবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিতে ‘থাড’ মোতায়েনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে এর আগে রাশিয়া ও চীন বলেছে, এর বিরুদ্ধে তারা সম্মিলিত অবস্থান জোরদার করবে। এ ঘটনার পর চীন তার নতুন বিমানবাহী রণতরী উদ্বোধন করেছে। রণতরীটি ২০২০ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল।

এছাড়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপকে কোরিয়া উপদ্বীপে পাঠানোর ঘোষণার পর সেখানে এখন কার্যত যুদ্ধাবস্থা জারি রয়েছে। পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও ইউএসএস মিশিগানে ১৫৪টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, ৬০ জন বিশেষ প্রশিক্ষিত সেনা এবং কয়েকটি মিনি-সাবমেরিন রয়েছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্র চসুন ইলবো জানিয়েছে। মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে কার্ল ভিনসনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউএসএস মিশিগান কোরিয়া উপদ্বীপে সামরিক মহড়া চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, রণতরী কার্ল ভিনসন নির্দেশ অনুসারে কোরিয়ার দিকে যাত্রা করেছে।

পিয়ংইয়ং কোরিয়া উপদ্বীপে যে কোনও সামরিক মহড়াকে আগ্রাসন বলে মনে করে। তারা এর প্রতিক্রিয়ায় হুমকি দিয়েছে, ‘মার্কিন আগ্রাসন রুখতে প্রয়োজনে রণতরী ডুবিয়ে দেওয়া হবে।’ সূত্র: বিবিসি।

নিউজ আগামী/স

ব্রেকিং নিউজঃ
Widget by:Baiozid khan