Home
Published: 2017-03-23 02:13:17

নিউজ আগামী:

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে বুধবার বিকেলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে হামলার ঘটনায় বিশ্বনেতারা লন্ডনের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানিয়েছে

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে যুক্তরাজ্যের পুলিশ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে বিবেচনা করছে। হামলায় আইএস-এর পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা জানিয়ে খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এ ঘটনায় বিশ্বনেতারা লন্ডনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিমানবন্দর ও মেট্রোস্টেশনে একযোগে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পূর্তির দিনেই লন্ডনে এ ঘটনা ঘটে। ব্রাসেলসের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৩২ জন।

টেমস নদীর ওপর ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ। এর দক্ষিণ প্রান্ত গিয়ে যুক্ত হয়েছে পার্লামেন্ট এলাকায়। অপর প্রান্তে নানা দর্শনীয় স্থাপনা। সেই ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে আসার পথে সজোরে গাড়ি চালিয়ে তা পথচারীদের ওপর উঠিয়ে দেন হামলাকারী। এতে দুজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গাড়ির ধাক্কায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীর কথা জানিয়েছে স্কাই নিউজ।

গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গিয়ে আঘাত হানে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হামলাকারী ৮ ইঞ্চি ছুরি নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে এক পুলিশ সদস্যের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন তিনি। তখন পুলিশ হামলাকারীকে গুলি করে নিবৃত করে। গুলিতে নিহত হন হামলাকারী। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান মার্ক রওলি জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালাতে ওঁৎপেতে থাকা এক হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।

ওই ঘটনার সময় সংসদের উভয় কক্ষে (হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কমন্স) অধিবেশন চলছিল। ঘটনার মুহূর্তের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে সংসদ ভবন থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমপিদের নিরাপত্তায় পুরো সংসদ ভবন এলাকা ঘিরে ফেলে আর্মড পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পার্লামেন্ট ভবন। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঠাসা থাকে এই এলাকা। আটকা পড়ে সেই দর্শনার্থীরাও। পার্শ্ববর্তী ওয়েস্টমিনস্টার পাতাল রেলস্টেশনসহ পুরো এলাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো লন্ডন শহরে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে হামলা চালানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই ইউরোপীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় জানতে পেরেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। তবে তার সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছেন, আইএসের প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘যদিও এ হামলার প্রেক্ষাপট এখনো স্পষ্ট নয়, তবু আমি পুনরায় আশ্বস্ত করতে চাই যে জার্মানি এবং এ দেশের জনগণ সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াবে। ’

হামলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেন বলে জানায় হোয়াইট হাউস। এ তথ্য জানিয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার বলেন, ট্রাম্প ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিউজ আগামী/রেজা

ব্রেকিং নিউজঃ
Widget by:Baiozid khan