Home
Published: 2017-03-19 08:06:39

নিউজ আগামী:

বাংলাদেশ ঘেঁষা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে গ্রামবাসির সংঘর্ষে এক নারীসহ নিহত হয়েছে তিন উপজাতীয়। এ ঘটনায় উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে সীমান্তবর্তী ওই গ্রামটিতে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিএসএফের এক জওয়ানের নারীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার প্রতিবাদ করতে গেলে এ সংঘর্ষ বাধে। এসময় বিএসএফের গুলিতে তিন গ্রামবাসি নিহত হয়। প্রাণহানির প্রতিবাদে শনিবার দক্ষিণ ত্রিপুরায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল সিপিআই(এম)।

তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে গবাদি পশুর চোরাচালান প্রতিরোধ করতে গেলে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিএসএফের সংঘর্ষ হয়। এসময় বিএসএফ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে তিন চোরাকারবারী নিহত ও দুইজন আহত হয়। সংঘর্ষে আহত হয় বিএসএফ সদস্যরাও।

গত শুক্রবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ত্রিপুরার চিতাবাড়ি বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফের এ সংঘর্ষ হয়। প্রাণহানির ঘটনায় বিএসএফের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে গ্রামবাসি। পুলিশ সুপার (কন্ট্রোল রুম) ভানুপদ চক্রবর্তী এফআইআরের উদ্বৃতি দিয়ে জানান, গ্রামবাসি অভিযোগ করেছেন, চিতাবাড়ি গ্রামের এক তরুণী রাবার বাগানে কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিএসএফের তিন জওয়ান মেয়েটির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

এসময় মেয়েটি সাহায্য চেয়ে চিৎকার করলে গ্রামবাসি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করলে বিএসএফের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে এবং জওয়ানদের গুলিতে এক নারীসহ তিন গ্রামবাসি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়, আহত হয় আরও দুজন।

বিএসএফ শ্লীলতাহানির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছে, গরু পাচারকারীরা বিএসএফের ওপর হামলার চেষ্টা করলে জওয়ানরা তাদের দিকে ফাঁকা গুলি ছোড়েন।

এদিকে বিএসএফের গুলিতে তিন গ্রামবাসি নিহতের ঘটনায় শনিবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এ ঘটনায় তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার বিএসএফের পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।

বিএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, বিএসএফের ত্রিপুরা সীমান্তের ৩১ ব্যাটালিয়নের আওতাধানী ভাঙ্গামুড়া সীমান্ত চৌকির (বিওপি) কাছাকাছি কর্তব্যরত জওয়ানরা প্রত্যক্ষ করেন নারী-পুরুষসহ ৩০ থেকে ৪০ জন চোরাকারবারী অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচারের চেষ্টা করছে। এসময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন এবং চোরাকারবারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সতর্কতা স্বরূপ ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। কিন্তু তারা এতে কর্ণপাতই না করে বিএসএফ সদস্যদের ঘিরে ফেলে হামলার চেষ্টা করে। জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ সদস্যরা তখন গুলি করে।

বিবৃতিতে বিএসএফের কাছে প্রতিটি মানবজীবনের মূল্য আছে উল্লেখ করে প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়। সংঘর্ষের সময় বিএসএফ পাচারের জন্য আনা ১০টি গবাদি পশু জব্দ করেছে বলে দাবি করা হয়।

তিন উপজাতীয় নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সিপিআই(এম)। এ ঘটনাকে জঘন্য ও বর্বর উল্লেখ করে দলটি বলেছে, ‘এটা দরিদ্র উপজাতী নারীর শ্লীলতাহানির স্পষ্টত চেষ্টা। দলটি শনিবার দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম জেলায় সকাল-সন্ধ্যা বন্ধ (হরতাল) পালন করছে।

হরতালের প্রভাবে স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় স্থবিরতা নেমে আসে। শনিবার দোকান মালিকরা তাদের দোকানের শাটার বন্ধ রাখেন, মার্কেট বন্ধ ছিল এবং রাস্তায় যান চলাচল করতে দেখা যায়নি। এছাড়া সরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোন উপস্থিতি ছিল না। স্কুল ও একমাত্র সাবরুম কলেজও বন্ধ ছিল।

খবরে বলা হয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক ও পুলিশ সুপার ওই এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ ফোর্স নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ডিজিপি কে নাগরাজের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন।

নিহত তিন গ্রামবাসি হলেন পরকুমার (৪০), মান কুমার (৩০) ও স্বরলক্ষী (৪০)। আহত দুজনের নাম সুনীল কুমার (৪৭) ও জীবন কুমার (২২)।

নিউজ আগামী/রেজাউল

ব্রেকিং নিউজঃ
Widget by:Baiozid khan