Home
Published: 2015-08-04 07:42:27 এ লেখাটি ৬২৪ বার পঠিত হয়েছে।

মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ইজি বাইক, ভটভটি, করিমন, নসিমন জাতীয় যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। অন্যদিকে  সারাদেশে হাইকোর্ট ফিটনেসবিহীন যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ভুয়া লাইসেন্স জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দেশে ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে যে সব যানবাহন চলছে তা বন্ধ হয়ে গেলে বেকায়দায় পড়বে সরকার। কারণ সামাল দেয়ার মত বিকল্প যানবাহন সরকারি কিংবা বেসরকারি খাতে নেই।

এদিকে অটোরিক্সা  মালিক ও চালকদের মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে, দাবি আদায়ে আন্দোলন দানা বাঁধছে তাতে একদিকে পায়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে যেতে যাত্রী থেকে শুরু করে পথচারীরা যেমন হিমশিম খাচ্ছেন তেমনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন সকলে।

চট্টগ্রাম অটোরিক্সা মালিক সমিতির নেতা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, সরকার যদি অটোরিক্সা মহাসড়কগুলোতে না চালাতেই দেয় তাহলে এতদিন ধরে লাখ লাখ অটোরিক্সা আমদানি হতে দিয়েছে কেন? তিনি বলেন, মহাসড়কগুলো ছাড়া তেমন কোনো স্থান নেই যেখানে এত বিপুল সংখ্যক অটোরিক্সা চলবে। অনেক মানুষের পক্ষে এ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় তারা অটোরিক্সাতে রোগী পরিবহন করেন, রিক্সা না পেয়ে পরীক্ষার্থীরা অটোরিক্সায় পরীক্ষা কেন্দ্রে যান তারা যদি বিকল্প পরিবহন না পায় তাহলে কি বেকায়দায় সকলকে পড়তে হবে তা সরকার ভেবে দেখেছে কি?

এ খাতে সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, সরকারের যদি সত্যি সুনির্দিষ্ট পরিবহন ও যোগাযোগ পরিকল্পনা থাকত তাহলে এমন ধরনের বিলম্ব সিদ্ধান্ত নিত না। এখাতে এত টাকা বিনিয়োগ করার আগে বিনিয়োগকারীরা দু’বার চিন্তা করত। অটোরিক্সা, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটি, ব্যাটারি চালিত ভ্যান বা রিক্সায় পুঁজি খাটিয়ে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এখন যদি যানবাহনগুলো চালাতে না পারে তাহলে লাভ তো দূরের কথা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ব্যাংককেও লোকসান গুণতে হবে। একই সঙ্গে বেকার হয়ে যাবে লাখ লাখ চালক। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটা উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে। রাস্তায় নামলে ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর মার্কা গাড়িতে চড়তে হবে না, দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে না, তাদের পরিবার পথে বসবে না। কোনো দেশেই মহাসড়কে অটোরিক্সা চলে না, রাজপথে দ্রুত যানবাহনের পাশাপাশি ধীরগতির রিক্সা চলে না। সরকার যদি সেই পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিতে চায় তাহলে মহাসড়কের পাশাপাশি বিকল্প সড়ক থাকতে হবে। যেমন উন্নত দেশে মহাসড়কগুলো বিভিন্ন জনপদ বা এলাকাভিত্তিক স্থানীয় সড়কের পৃথক হিসেবে নির্মাণ করা হয়ে থাকে। ওই সব দেশে মহাসড়কের পাশে হাঁটবাজারও বসে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যমুনা সেতুর পূর্বে কড্ডার মোড় ও পশ্চিম পাশে এ্যালেঙ্গা পর্যন্ত প্রতিদিন ভোরে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে রাস্তা ঝাড়– দেবার ব্যবস্থা সেতুটি উদ্বোধনের পর বছর তিনেক চালু ছিল। এতে মহাসড়কটির ওই স্থানে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে যে পাথর কুঁচি সৃষ্টি হত তা পরিস্কার হওয়ায় যানবাহনের ব্রেইক ফেল হত না বা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াত না। নেদারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান যতদিন মহাসড়কের ওই অংশের দেখভাল করত ততদিন তা ধারাবাহিকভাবেই পরিস্কার করা হত। এরপর দেশি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নেয়ার পর যন্ত্রটি বিকল হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের পরামর্শ, উন্নয়ন ও মহাসড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিনিয়ত যাত্রী বৃদ্ধির নিরিখে পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় শুধু গাড়ির সংখ্যা হ্রাসবৃদ্ধির বিষয়টি একমাত্র বিষয় নয়। বা হুট করে লাখ লাখ অটোরিক্সা থেকে শুরু করে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিলেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা জুতা আবিস্কারের ন্যায় পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে মাত্র, যোগাযোগ ব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটতে পারে না।

উত্তরণ ঘটাতে হলে উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি উন্নত সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে এ উন্নয়ন একদিকে যেমন টেকসই হবে না, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে আসলে বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি সরকারকেই সামাল দিতে হবে মাত্র।

পদ্মা সেতু নির্মাণের আগে বাইপাস সড়ক নির্মাণ হচ্ছে, কিন্তু আজব যে যমুনা সেতু নির্মাণ ও উদ্বোধনের পর বছরের পর বছর ধরে বাইপাস সড়কগুলো নির্মাণ করে স্থানীয় জনপদ থেকে মহাসড়কে যুক্ত করা হয়েছে। আর এসময়ে অসংখ্য দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েক হাজার মানব সন্তান। তাদের পরিবার পথে বসেছে।

সরকার অটোরিক্সা সহ সবধরনের ত্রিচক্রযান মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করেছে, এটি সঠিক পদক্ষেপ। আদালত ফিটনেসবিহীন গাড়ি বা ভুয়া লাইসেন্সধারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাও সঠিক। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মানুষ যেন কর্মসংস্থান হারিয়ে পথে বসে না যায় এবং পুলিশের টু পাইস কামানোর ধান্ধা আখেরে আরো বৃদ্ধি না পায় তার সর্বোত্তম দেখভাল করার দায়িত্ব মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের।

এ মুহুর্তে ঘন্টার পর ঘন্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহনের অপেক্ষায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। রোববার ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক জুড়ে এধরনের গোলযোগে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই বিপর্যয় পরিস্থিতি যেন উত্তরণের দিকে মোড় নেয় সেই প্রচেষ্টা যোগাযোগ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী করছেন এমন আশা সকলের।

 

Find us on Facebook
ব্রেকিং নিউজঃ
Widget by:Baiozid khan